বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে দর্শক-ভক্তদের আবেগ আজও অটুট। ১৯৯৬ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
এই আলোচনায় একসময় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল একটি বই। প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে বইটির বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। বইটির নাম ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’।
সাংবাদিক রবি আরমানের লেখা বইটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আলোচনায় আসে। বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আর এই বিষয়টিই বইটি নিয়ে বিতর্কের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রবি আরমান সে সময় বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পূর্ণিমা ম্যাগাজিনের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। ২০০৯ সালের শেষদিকে তিনি মারা যান।
বই নিয়ে আপত্তি সালমান শাহর পরিবারের বইটি প্রকাশের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
পরে আদালত বইটির বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাজার থেকে বইটির কপি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইটি একটি নিষিদ্ধ ও দুর্লভ গ্রন্থে পরিণত হয়।
তৎকালীন এক জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘আত্মহত্যা’ শব্দটির ব্যবহারই তাঁর পরিবারের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ ছিল। কারণ নীলা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বইটির প্রচ্ছদেও ছিল রহস্যের আবহ শুধু সালমান শাহর মৃত্যুর প্রসঙ্গেই নয়, বইটির প্রচার ও প্রচ্ছদের বর্ণনাতেও ছিল আবেগ ও বিষাদের আবহ। সেখানে বাংলা চলচ্চিত্রের বাগানে ফুটে ওঠা এক উজ্জ্বল ফুলের সঙ্গে সালমান শাহকে তুলনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর অকালমৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্য ও বিষাদের কথাও তুলে ধরা হয়েছিল।
বইটির প্রচারে দাবি করা হয়েছিল, সালমান শাহর জীবনের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় এবং ঢাকাই চলচ্চিত্রের সেই সময়ের নানা ঘটনা এতে উঠে এসেছে। ফলে প্রকাশের পর চলচ্চিত্রপ্রেমী ও পাঠকদের মধ্যে বইটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটির স্বাভাবিক বিক্রি ও বাজারজাতকরণ বন্ধ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে এর কপি দুর্লভ হয়ে পড়ে। সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহের কারণে বইটিকে ঘিরেও কৌতূহল এখনো রয়ে গেছে।
প্রায় তিন দশক পরও সালমান শাহর মৃত্যুর নানা দিক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সেই আলোচনার ইতিহাসে ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ বইটি এখনো একটি বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।
