মাসের নির্দিষ্ট সময়ে বারবার মাথাব্যথা, আলো বা শব্দে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সেটি মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা শুধু মাথাব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে হরমোনের ওঠানামাকে দায়ী করা হয়। বিশেষ করে মাসিকের আগে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে অনেকের মাইগ্রেন শুরু হতে পারে বা ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। বয়ঃসন্ধির পর মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়তে দেখা যায়। আবার মেনোপজের আগের সময়েও হরমোনের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সমস্যা বাড়তে পারে।
তবে শুধু হরমোনই মাইগ্রেনের জন্য দায়ী নয়। ঘুমের অনিয়ম, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনও অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাইগ্রেনকে মূলত জিনগত ও স্নায়বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মস্তিষ্কের কিছু স্নায়ুপথ বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়লে আক্রমণ শুরু হতে পারে। তবে কোন বিষয়টি কার মাইগ্রেন বাড়াবে, তা ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে।
মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর হঠাৎ বিশ্রামে গেলেও কারও কারও মাইগ্রেন শুরু হতে পারে। তাই কাজের পাশাপাশি নিয়মিত বিরতি ও বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।
আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, অতিরিক্ত গরম, আর্দ্রতা কিংবা বায়ুচাপের পরিবর্তনও কিছু মানুষের মাইগ্রেন বাড়াতে পারে। এ ছাড়া আয়রনের ঘাটতি, সিলিয়াক রোগ ও থাইরয়েডের সমস্যার মতো কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও মাইগ্রেনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
নিজের মাইগ্রেনের কারণ চিহ্নিত করতে মাথাব্যথা কখন শুরু হচ্ছে, আগের রাতে কতটা ঘুম হয়েছে, কখন খাবার খাওয়া হয়েছে, কতটা পানি পান করা হয়েছে এবং মানসিক চাপ কেমন ছিল—এসব লিখে রাখা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের কোন সময়ে মাথাব্যথা হচ্ছে, সেটিও নোট করা উপকারী। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের তথ্য পর্যালোচনা করলে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দীপক চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।
মাইগ্রেনের সমস্যা ঘন ঘন হলে, ব্যথার তীব্রতা বাড়লে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সব ধরনের মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণও থাকতে পারে।
