যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৩ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত আইআরজিসি'র

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৩ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত আইআরজিসি’র

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা। হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

তবে বেইজিং বা ওয়াশিংটনের চোখ রাঙানিকে তোয়াক্কা না করে এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

জর্ডানে ইরানের ৫ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে ডন নিউজ জানায়, আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়লেও এতে কোনো হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

কুয়েতেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘শত্রু’ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কুয়েত সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, তারা সফলভাবে শত্রু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করছে, তবে এই হামলার উৎস নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফল হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে। ইরানের হুঁশিয়ারি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।”

কেন এই মার্কিন হামলা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ইরান।

এর জবাবেই মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইরানের অভ্যন্তরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা শুরু করে।

তবে এই হামলাকে একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে ব্যাহত করবে না বলে তারা বিশ্বাস করেন।