যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, দুই দেশের সম্পর্ক আরো অবনতির শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, দুই দেশের সম্পর্ক আরো অবনতির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)–এর অভিযানে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও মেক্সিকোর মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দুই দেশ যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিলেও অভিবাসন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

হিউস্টনে গুলিতে নিহত মেক্সিকান নাগরিক গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে আইসিই অভিযানে নিহত হন ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো। আইসিইর দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং একটি ট্রাফিক সিগন্যালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালানো হয়।

তবে নিহতের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, আরাউজো জানতেন না যে তাকে অনুসরণ করা গাড়িটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। বিষয়টি বুঝতে পারলে তিনি অবশ্যই গাড়ি থামাতেন।

১৭ মেক্সিকানের মৃত্যুর তদন্ত দাবি মেক্সিকো সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে আইসিইর হেফাজত ও অভিযানে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন আটক কেন্দ্রে চিকিৎসার অবহেলা বা প্রতিকূল পরিবেশে এবং তিনজন অভিযান চলাকালে নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মেক্সিকান নাগরিকদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভিন্নমত শিনবাউমের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ মনে করছেন, বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত ছিল। আবার অন্যদের মতে, ১৭ জনের মৃত্যুর পর নয়, আরও আগেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটির গবেষক হোসে লুইস ভালদেস উগালদে বলেন, এই ঘটনা দুই দেশের নিরাপত্তা, অভিবাসন ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ফাউস্তো প্রেতেলিন মনে করেন, বর্তমানে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এই ইস্যু উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শিনবাউমের অভিযোগের জবাবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আইসিই এজেন্টদের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটির দাবি, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

কূটনৈতিক প্রতিবাদেও মেলেনি সমাধান মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১১টি কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাতে সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এখন বিকল্প পথ অনুসরণের কথা ভাবছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশের অনড় অবস্থানের কারণে আপাতত ওয়াশিংটন ও মেক্সিকো সিটির সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।