ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে টমাস ডুলির শিষ্যরা।
দলের এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ টমাস ডুলি। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও খেলোয়াড়দের কিছু দুর্বলতা তার চোখ এড়ায়নি। বিশেষ করে ফার্স্ট টাচ, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ডুলি বলেন, প্রথমার্ধের ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর দল গুছিয়ে খেলতে শুরু করে এবং বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ার্ধে পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়। ইউরোপের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় তিনি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “সান মারিনোকে অনেকেই দুর্বল দল মনে করলেও তারা শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী। সত্যি বলতে ড্র হলেও আমি খুশি থাকতাম। তবে জয় পাওয়ায় খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিতেই হবে।”
ডুলি আরও জানান, ম্যাচে বাংলাদেশ আরও তিন থেকে চারটি গোল করতে পারত। কিন্তু পুরোনো ফিনিশিং সমস্যার কারণে অনেক সুযোগ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় বেশ কয়েকবার সহজেই বল হারিয়েছে দল।
বাংলাদেশ কোচের ভাষায়, “ভুলগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে ম্যাচটি আবার দেখতে হবে। গোল করতে আমাদের অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করতে হয়। ফার্স্ট টাচও অনেক সময় প্রত্যাশামতো হয় না। তাই অনুশীলনে পাসিং ও রিসিভিং দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তবে মাঠের খেলার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থনও মুগ্ধ করেছে ডুলিকে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। অনেকটা ঢাকার মাঠে খেলার অনুভূতি পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
ডুলি বলেন, “বাংলাদেশের লাখো ফুটবলপ্রেমী রয়েছে এবং তারা সবাই ফুটবল বোঝে। ম্যাচের আগে আমরা জানতাম, প্রায় চার হাজার সমর্থক শুধু আমাদের খেলা দেখতে এসেছেন। তাই তাদের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়া কোচদের বিশেষ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন টমাস ডুলি। একই সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
